কিছু ভিন্নধর্মী কবিতা
প্রিয়তমা কৃষ্ণচূড়া
©সুজিত সাহু
-------------------------
কৃষ্ণচূড়া হে মোর কৃষ্ণচূড়া
বহুযুগ ধরে হয়তো
তোমার অস্তিত্ব মোহের আবেশে
সজীবতার আলাপনে !
হয়তো ছিল না কোনো নাম ।
বহুযুগ ধরে সংকীর্ণ ধূলিময়
সরণির ধারে, উন্মুক্ত প্রান্তরে,
ঝরে পড়ে নশ্বর পাপড়ীগুলি
প্রকৃতির নিয়ম মেনে আপনমনে।
বিবর্ণ মৃত্তিকার হৃদয়ে বয়ে যায়
যেন আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভা !
বয়ে যায় সৃষ্টির কারুকাজে,
জীর্ণ পাতায় পাতায়।
আবার জড়াব যখন তখনও
থাকবে তুমি সজীবতার আলাপনে,
লাভা ছড়িয়ে, সৃষ্টির কারুকাজে
দিবারাত্রির উন্মুক্ত শূন্যের
পানে চেয়ে বহুযুগ ধরে ।
তুমি সেই কৃষ্ণচূড়া
মোর প্রিয়তমা কৃষ্ণচূড়া
যার আলাপন প্রকৃতির প্রতিটি
সূক্ষ্ম সরণির সাথে বহুযুগ ধরে ।
বছরশেষের গান
©সুজিত সাহু
---------------------------
এক চৈত্র দিনের শান্তক্ষনে
বছর শেষের উদাসী গানে
হটাৎ সেদিন চোখ পড়েছে
তোমার চোখের পলকে
দিনটি ছিল চৈত্র মাসের
অস্ত্ররাগ এক বিকেলের
হয়নি ফেরা সেই থেকে আর
পুড়ছে সময় আগুনে
সুখের ভ্রুনে বৃক্ষ হবো
তোমার দেওয়া ফাগুনে।
পল্লীর পথ ধরে
©সুজিত সাহু
---------------------------
মন তুই নিয়ে চল আমাকে আমার শান্তির নিকেতনে
যেথায় আত্মার সাথে মিলবো আমি প্রানের বৃন্দাবনে।
কাটিয়েছি কত সময় জমির আলে, নদীর ধারে ধারে
হারিয়েছে সেইসব সোনালী দিন কালের অগোচরে।
বহুদিন হলো কাঁদা মাটির পথ ধরে আর হাঁটি না
দিগন্ত জুড়ে ফসলের ক্ষেত,বৃক্ষের সারি দেখিনা।
নিজেকে আজ সেই সবুজের মাঝে আর খুঁজে পাইনা
ভাবনার অন্তরালে অচিনদেশে তাই হারিয়ে যেতে পারিনা।
কৃষকের হাস্যজ্জোল মুখ খানি আর দেখতে পাইনা
সহজ-সরল গ্রাম্য জীবন আজ আর দেখা হয়না।
বিকেলের মাঠে বন্ধুদের সাথে আর খেলা হয়না
তৃপ্তি ভরে আয়েশ করে মাটির ঘ্রান নিতে পারিনা।
গ্রাম থেকে সুদূর পাড়ে কংক্রিটের জঙ্গলে করছি বসবাস
অবাক বিস্ময়ে ভাবি একদিন কোথায় ছিল আমার বাস!
দেখবো কবে আবার নিজেকে সেই গ্রাম্য মেঠো পথে!
নিজেকে খুঁজে পাবো একদিন সেই সোনালী পরিবেশে।

